মেনু নির্বাচন করুন

খাদ্য উৎপাদন

নাঙ্গলকোট  উপজেলা কুমিল্লা জেলার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের একটি উপজেলা । এর উত্তরে লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা,  পূর্বে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পশ্চিমে কুমিল্লা জেলার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা এবং দক্ষিণে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ ও ফেনী জেলার দাগন ভূইয়া উপজেলা অবস্থিত। এ উপজেলার মোট আবাদী জমি ১৬,৪৯১ হে.। রবি, খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে এখানে যথাক্রমে বোরো, আউশ ও আমন ধান চাষ হয়ে থাকে। বোরো মৌসুমে হাইব্রিড ধান সহ প্রায় ১০০% জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ হয়ে থাকে। আউশ ও আমন মৌসুমে অধিকাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান ও নিচু জমিতে আমন মৌসুমে বোনা আমন চাষ হয়ে থাকে। বোরো ধান সম্পূর্ণ সেচ নির্ভর যা গভীর, অগভীর, এলএলপি, ফ্র্যাকশনাল পাম্প ও স্থানীয় পদ্ধতিতে সেচ দেয়া হয়। আউশ ও আমন ফসল সম্পূর্ণ বৃষ্টি নির্ভর। আমন ধানে সম্পুরক সেচ দেয়া সম্ভব হয় না বিধায় অনাবৃষ্টি হলে আমনের ফলন অনেক সময় কম হয়। রবি মৌসুমে শীতকালীন সবজি, গোল আলু, মিষ্টি আলু, সরিষা, গম ও ডাল জাতীয় শস্যের সামান্য চাষ হয়ে থাকে। উপজেলা প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে বিভিন্ন ধরণের ফল গাছ রয়েছে। কৃষকগণ প্রায় শতভাগ জমিতে যান্ত্রিক চাষাবাদ করেন। এখানে কৃষি শ্রমিকের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ধান লাগানো, পরিচর্যা ও কর্তনের সময় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এ উপজেলা প্রায় বন্যামূক্ত। অপরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, নদী-নালা ও খাল না থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় যার কারনে পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্বেও সবজি চাষের সম্প্রসারণ সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ডাকাতিয়া নদীতে শুকনো মৌসুমে পানি প্রবাহ না থাকায় রবি মৌসুমে পানি সেচের সমস্যা হয়। আবার অনেক সময় বোরো মৌসুমে নদীতে জোয়ারের লোনা আসায় সেচ কাজে বাঁধা সৃষ্টি হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত বিদ্যূত সরবরাহ না থাকায় এবং ঘন ঘন লোড শেডিং এর কারণে বোরো মৌসুমে সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটে। বিএডিসি-র  বীজ বিক্রয় কেন্দ্র না থাকায় উন্নত বীজ প্রাপ্তিতে অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়। অপর্যাপ্ত জ্ঞানের কারনে কৃষকগন জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করে। ইউরিয়া সারের ব্যবহার অধিক হলেও অন্যান্য সার সুষম মাত্রায় ব্যবহার করে না। এ এলাকায় গবাদি পশুর সংখ্যা কম বিধায় জমিতে পর্যাপ্ত জৈব সার প্রয়োগ সম্ভব হয় না। এনএটিপি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম চালু থাকায় কৃষকদের মধ্যে কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।